মানুষের জীবনে ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় । বৈজ্ঞানিক দের মতে একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের ৬-৮ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন ।
প্রতিদিন রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমালে এবং সকালে সূর্যোদয়ের আগে উঠলে, মানুষ এমনিতেই অনেক রোগ থেকে মুক্তি পেয়ে যায় । কিন্তু রাতে সহজে ঘুম আসতে চায় না এই সমস্যা আমাদের জন্য এখন নতুন কিছু নয় । এই সমস্যাটা আমরা নিজেরাই কিছু কাজের মাধ্যমে সৃষ্টি করি ।তাই কিছু নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব ।
১. সন্ধ্যার পর মোবাইল বা ল্যাপটপ বেশি ব্যবহার না করা
আমরা অনেকেই ঘুমানোর আগে বা সন্ধ্যার পর বিছানায় শুয়েবসে মোবাইল বা ল্যাপটপ চালাতে পছন্দ করি ।কিন্তু মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে নির্গত আলো আমাদের দেহের মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণের বাধা দেয় । এই মেলাটোনিন হরমোন ঘুম আসতে সাহায্য করে । তাই এই অভ্যাস বর্জন করুন ।
২. ধূমপান থেকে বিরত থাকুন
সিগারেট যে দেহের জন্য ক্ষতিকর তা আমাদের সকলেরই জানা । সিগারেটের মধ্যে থাকা নিকোটিন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় ।
৩. ভাজাপোড়া বা অধিক মসলাযুক্ত খাবার গ্রহণ না করা
অধিক তৈলাক্ত বা অধিক মসলাযুক্ত খাবার হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে । তাই হজম ঠিক ভাবে না হওয়ার কারণে রাতে সহজে ঘুম আসতে চায় না ।এজন্য রাতের বেলা বা সন্ধ্যার পর এই জাতীয় খাবার থেকে বিরত থাকুন । রাতে মাংস না খাওয়াই ভালো । রাতে সবসময় হালকা খাবার খেতে হবে ।
৪. চা বা কফি পান থেকে বিরত থাকুন
চা কিংবা কফি তে ক্যাফেইন থাকে যা রাতের বেলায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় । তাই সন্ধ্যার পর বা ঘুমানোর আগে চা কিংবা কফি না খাওয়া ঘুমের জন্য ভালো ।
৫.দৈহিক পরিশ্রম করা
কোনো মানুষ ক্লান্ত থাকলে সহজেই তার ঘুম আসে। তাই আপনি সুস্থ সবল ব্যাক্তি হলে আপনাকে দিনের বেলায় কাজ করতে হবে । কোনো কাজ না থাকলে ব্যায়াম করতে পারেন ।এতেও শরীরে ক্লান্তি আসবে ।
৬. দিনের বেলা বেশি ঘুমানো যাবে না
আমরা অনেকেই দুপুরে খেয়ে-টেয়ে একটু লম্বা সময় ধরে ঘুমিয়ে নেই ।এজন্য রাতে আর সহজে ঘুম আসে না ।এই অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করতে হবে ।তবে দুপুরে খাওয়ার পর একটু সময় ঘুমিয়ে নেয়া অথবা বিশ্রাম করা দেহের জন্য অনেক উপকারী ।
উপরের নিয়ম গুলো মেনে চলার পরও দ্রুত আপনি এর ফল নাও পেতে পারেন, কিন্তু ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করা যায় ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন