যাদের ওজন প্রয়োজনের তুলনায় কম তারা শারীরিক সমস্যার সাথে মানসিক সমস্যাতেও ভোগেন।যেমন নিজের ওজন কম থাকার কারণে নিজেকে আড়াল করে রাখতে চান ,সবার সামনে যেতে লজ্জা পান, একটু পরিশ্রম করলে হাপিয়ে যান ।
অতিরিক্ত ওজন থাকলে সেটি কমানো অনেকটা সহজ, কিন্তু দেহের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকলে সেটি তত সহজে বৃদ্ধি করা যায় না।
অনেকের ভুল ধারণা আছে যে বেশি বেশি খেলেই ওজন বাড়বে ,আসলে তা নয় । আবার অনেকেই বেশী বেশী মিষ্টিজাতীয় খাবার খেয়ে ওজন বৃদ্ধি করতে চায় । কেউ কেউ আবার বিভিন্ন ওষুধ খেয়ে ওজন বাড়াতে চান ।এসবের কোনোটাই সঠিক নয় ।
আবার শুধু ওজন বাড়লেই যে ভালো তা কিন্তু নয়।কারণ শরীরে ক্ষতিকর মেদ জমলেও ওজন বৃদ্ধি পায় ।আপনাকে চেষ্টা করতে হবে শরীরে পেশী গঠনের মাধ্যমে ওজন বাড়ানোর।
তাই আপনাকে সঠিকভাবে অগ্রসর হতে হবে ।এখানে কিছু বিজ্ঞানসম্মত উপায় তুলে ধরা হলো
১.বিভিন্ন বাজে অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে
হস্তমৈথুনের মতো বাজে অভ্যাস থাকলে সবার আগে ত্যাগ করতে হবে । কারণ এই অভ্যাস থাকলে কোনো চেষ্টাই কাজে আসবে না । এছাড়াও ধূমপান করা,রাতে দেরি করে ঘুমানো, সকালে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা ,রাত করে অতিরিক্ত খাওয়া ,সকালে অনেক সময় পর্যন্ত না খেয়ে থাকা, ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া, ফাস্টফুড বেশি বেশি খাওয়া ।এসব অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে ।
২.সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহণ
আপনাকে চেষ্টা করতে হবে প্রতিদিন একই সময়ে খাদ্য গ্রহণ করার ।তাহলে দেহের বিভিন্ন কোষ গুলো আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে পারে।সকালের খাবার ৭ টা থেকে ৮ টার মধ্যে ,দুপুরের খাবার ১২টা থেকে ২টার মধ্যে এবং রাতের খাবার ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে ।এই সময়টা দিন ছোটো বা বড় হওয়ার উপর নির্ভর করবে ।আসল কথা তিন বেলায় খাবার গ্রহণে দেরি করে যাবে না ।
খাওয়ার পরপরই পানি পান করা যাবে না,২০ বা ৩০মিনিট অপেক্ষা করা ভালো ।অবশ্য খুব পিপাসা লাগলে একটু খেতে পারেন ।
৩.পুষ্টি গুন সম্পন্ন খাবার গ্রহণ
আপনাকে অবশ্যই প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে ।যেমন সকালে আপনি ছোলা, বাদাম বা কাঠবাদাম, খেজুর এসব খেতে পারেন ।ডিম খেলে পোজ অথবা সিদ্ধ করে খাবেন ।
সকালে বেশি প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে ।যেমন ভাতের সাথে গরু বা খাসির মাংস, পরোটা, ঘি,মাখন ইত্যাদি ।দুপুরে ভাতের সাথে মাছ,ডাল ,শাক সবজি। আর রাতেও দুপুরের মতো খেতে পারেন ।তবে পরিমাণে কম খাবেন ।সকাল ও দুপুরের তুলনায় বেশি খাবেন না ।
৪.শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করতে হবে
শুধু খেলেই হবে না ।পরিশ্রম ও করতে হবে ।তাহলে খাবার থেকে সঞ্চিত শক্তি পেশিশক্তি হিসেবে জমা হবে। আর ভারী কোনো কাজ না থাকলে এর বিকল্প হিসেবে আপনি ব্যায়াম করতে পারেন।ব্যায়াম এর আগে বেশি কিছু খাবেন না আর ব্যায়াম করে খেতেও দেরি করবেন না।
৫.ওজন না বাড়ার কারণ চিহ্নিত করা
সবকিছু ঠিকঠাক রাখার পরেও যদি আপনার ওজন না বাড়ে তখন এর কারণ চিহ্নিত করতে হবে ।হতে পারে হজমের সমস্যা, কৃমি জাতীয় সমস্যা বা অন্য কোনো সমস্যা ।এজন্য আপনাকে পুষ্টিবিদের কাছে যেতে হবে।